শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর মোড় এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে মালতি বেগম একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। কয়েক বছর আগে স্বামী সাত বছর বয়সি এক কন্যাসন্তান রেখে তাকে পরিত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। রোজার আগে বাড়িতে ফেরেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই মা ও দুই ভাই তাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দেন এবং বিভিন্ন সময় মারধর ও কটু কথা বলেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মালতি। শনিবার দুপুরে পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি বাড়ির পাশের একটি গাছে উঠে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেন, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। পরে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর মালতি অভিযোগ করেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য মা ও ভাইরা মারধর করে, অপমান করে। আমি রাগের মাথায় গাছে উঠেছিলাম। আমি সুস্থ আছি, আমাকে পাগল বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তবে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা শাসন করেছি। পরে দেখি গাছে উঠে গেছে। আত্মহত্যা করতে পারে ভেবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব জানান, ‘আমরা ভেবেছিলাম কেউ আত্মহত্যা করতে গাছে উঠেছে। পরে শুনি পারিবারিক ঝামেলার কারণে এমনটা হয়েছে। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সে গাছের ওপরেই ছিল।’
রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন বলেন, ‘নারীর ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং নিরাপদে তাকে নামিয়ে আনি। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নন।’
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক সময় তালাকপ্রাপ্ত নারীরা নিজ পরিবারেও অনিরাপদ বোধ করেন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারিবারিক সহনশীলতা ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
