Previous
Next

সর্বশেষ

ইউনূসকেও মাঠে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ ইসলাম

ইউনূসকেও মাঠে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ ইসলাম


 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন বিএনপি মূল অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সংস্কার প্রশ্নে ড. ইউনূসকেও মাঠে নামার আহ্বান জানাচ্ছি। তার সরকারের উপদেষ্টাদেরও এ বিষয়ে মুখ খুলতে হবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেলেও জনগণ বিএনপির সঙ্গে নেই। কারণ তারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা নিজের ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন, তা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় আপনাদেরও দাঁড়াতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে হয়নি-দাবী ফকরুলের

মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে হয়নি-দাবী ফকরুলের


 

মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস আজ (৪ এপ্রিল) নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বাংলোয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে বেলা ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে দুপুরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

তার দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। এখান থেকেই সেক্টর ভাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বোরকা পরে তার দুই শিশুসন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং তাকে বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেনি, বরং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ অন্য নেতারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।

উল্লেখ্য, তেলিয়াপাড়া দিবস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণসহ দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
আ.লীগ নিষিদ্ধ করতে অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে

আ.লীগ নিষিদ্ধ করতে অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে


 

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ ভেঙে গেলে অথবা সংসদ অধিবেশন না থাকলে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

কিন্তু কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর আহূত সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটি উপস্থাপিত হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ পাস করলে আইনে পরিণত হবে, অন্যথায় অধ্যাদেশের কার্যকারিতা হারাবে।

এ বিবেচনা থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশ ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এখানে সাদা চোখে যেই গলদ বা দুর্বলতা চোখে পড়ে, তা হলো ১৪ সদস্যের কমিটিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব নেই। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১১ জন ও জামায়াত থেকে ৩ জন সদস্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দুই দলের বাইরে এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ছিল। ছিলেন সাতজন স্বতন্ত্র সদস্যও। তাঁদের মধ্য থেকে সদস্য নিলে কমিটি যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি বহুদলীয় চরিত্র পেত।

কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অবিকল গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি করা হয়েছিল, কমিটি কী যুক্তিতে সেগুলো রহিত করল? সেটা কি এ কারণে যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে এত দিন যে সরকারের একক ক্ষমতা ছিল, সেটাই বিএনপি সরকার বহাল রাখতে চায়? এত দিন নিম্ন আদালতের নিয়োগ ও পদায়নে যে নির্বাহী বিভাগের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ চলে আসছিল, তারাও সেটা অনুসরণ করতে আগ্রহী?

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের পক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে যে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, তাঁরাই একসময় তার শিকার হয়েছেন। আমাদের দেশে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞাও বদলে যায়।

এ ছাড়া কমিটি গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে উপস্থাপন না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে এগুলো আর কার্যকর থাকছে না। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে অধ্যাদেশগুলো যাচাই–বাছাই করে সংশোধিত আকারে উত্থাপন করা হবে। সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আর থাকবে না, হবে বিএনপি সরকারের আইন।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর অর্থ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নে এর আগে যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলো বৈধতাপূর্বক বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তাতেও অতীতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে এভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।

সংবিধানে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও এত দিন এটা হয়নি। নির্বাহী বিভাগ আরও নির্দিষ্ট করে বললে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হতো। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে। এই অধ্যাদেশে কোনো দুর্বলতা বা ঘাটতি থাকলে সরকার সেটি সংশোধনের কথা বলতে পারত। সেসব না করে পুরোপুরি আইনটি বাতিল করার অর্থ সরকার বিচার বিভাগকে আগের সরকারগুলোর মতোই অধীন করতে চায়। তারা মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়নেও অনাগ্রহী।

অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান-সংক্রান্ত বিষয়াদি পালন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। এই অধ্যাদেশ বাতিল করারই–বা কী যুক্তি থাকতে পারে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করবে, সেটা কি সরকারের নীতিনির্ধারকদের পছন্দ নয়?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, এ দুটি অধ্যাদেশ সংশোধন এবং যাচাই-বাছাই করে নতুন করে আইন করা বাঞ্ছনীয়। তবে এটা রহিত করা কোনোভাবে ঠিক হবে না।

এ ছাড়া প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়াতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু কমিটি সেগুলো অনুমোদন না দিয়ে ‘স্থগিত’ করেছে।

দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ২০২৫ সালে। এতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকেও আইনের আওতায় আনা এবং কমিশনের সদস্য বাড়ানো হয়।


বিএনপি সরকার যদি সত্যি সত্যি দুর্নীতি কমাতে চায়, তাহলে নখদন্তহীন দুদক দিয়ে কাজ হবে না। গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা হলো সংস্থাটি সব সময় ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি তদন্তে ভয় পায়। বরং তাদের ইচ্ছা পূরণের দুর্নীতি ধরার নামে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করে। বিএনপি এর ভুক্তভোগী হলেও পুরোনো আইনটিতে হাত দিতে না চাওয়া রহস্যজনক।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের পক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে যে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, তাঁরাই একসময় তার শিকার হয়েছেন। আমাদের দেশে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞাও বদলে যায়।

সরকার যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল গ্রহণ করেছে, এ জন্য তারা ধন্যবাদ পেতে পারে। কিন্তু তারা যেগুলো বাদ দিয়েছে এবং যাচাই–বাছাই করার জন্য স্থগিত করেছে, দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে তার পক্ষে জোরালো যুক্তি আছে বলে মনে হয় না।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল-মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে, তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। 

প্রশ্ন হলো সেই সংশোধন অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবে না বিপক্ষে? ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার হবে। এমনকি দল অপরাধ করলেও তার বিচার হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক একমাত্র আদালত, কোনো নির্বাহী আদেশ নয়।

এ মুহূর্তে দুটি বিষয় নিয়েই সংসদ উত্তপ্ত। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ। এ অধ্যাদেশের সব কটিই যে জনকল্যাণের কথা ভেবে করা হয়েছে, তা নয়। কিন্তু যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সরকারকে অধিকতর জবাবদিহির আওতায় আনতে, সেগুলো রহিত বা স্থগিত করার কোনো যুক্তি নেই। সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যেকোনো আইন পাস করতে পারে। কিন্তু সেই আইন গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী না করে যদি আরও দুর্বল করে, তাহলে নিকট অতীতে গণ-অভ্যুত্থানে এতগুলো মানুষ কেন জীবন দিল?

● সোহরাব হাসান সাংবাদিক ও কবি

* মতামত লেখকের নিজস্ব


 

নাসিরনগরে অবৈধ রিং জাল জব্দ

নাসিরনগরে অবৈধ রিং জাল জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার টেকানগর এলাকার বাকলংগন নদীতে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০’ বাস্তবায়নে এক বিশাল অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

 বুধবার (০১ এপ্রিল) পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাসিরনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সাহেল আহমেদ এবং প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার জনাব ফাহিমুল আরেফীন।

​অভিযান চলাকালে বাকলংগন নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ২৩০টি রিং জাল এবং ১০০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব অবৈধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত জালগুলো স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয়।

​অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা মৎস্য ও ভূমি অফিসের কর্মচারীসহ পুলিশ প্রশাসনের একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করেন। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।