Previous
Next

সর্বশেষ

 নিহতের পরিবারের পাশে স্থানীয় এমপি হান্নান ও উপজেলা প্রশাসন

নিহতের পরিবারের পাশে স্থানীয় এমপি হান্নান ও উপজেলা প্রশাসন


 নিউজ ডেস্ক 

খুব সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে জমিতে গিয়েছিলেন আহাদ মিয়া| পাকা ধান কাটার কথা ছিলো সেদিন| কিন্তু জমিতে পৌঁছে তিনি দেখেন-চারদিকে অথৈই পানি| কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে পাকা ধান ডুবতে দেখেন তিনি| কিছুক্ষণ এভাবেই নিশ্চুপ তাকিয়ে ছিলেন| হঠাৎই লুটিয়ে পড়েন জমির পাশে| কিছুক্ষনের মধ্যেই সে জমির পাশে মৃত্যু বরণ করেন| একই সঙ্গে অনিশ্চয়তার গভীর অন্ধকারে ডুবে যায় তার পুরো পরিবারে  স্বপ্নও।

এখনও আহাদের জমিতে পানি| সেই পানির নিচে ডুবে আছে শুধু ধান নয়- একটি কৃষক পরিবারের সংগ্রাম, পরিবারের থাকার শেষ আশ্রয়, তিন শিশুসহ অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ|



জানা গেছে, আহাদের বাড়ি উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে| পেশায় কৃষক হলেও তিনি গ্রাম থেকে পুরনো জামা-কাপড় সংগ্রহ করে গ্রামের বাজারে বিক্রি করেই চলে তার সংসার| থাকার জায়গা হিসেবে পৌতৃক ভাবে পাওয়া এক শত জায়গার উপর একটি ছোট ভাঙ্গা টিনের ঘর| স্ত্রীসহ তিন সন্তান নিয়ে সেই ঘরে বসবাস করতেন| বাড়ি পাশে মেদির হাওরে এক বিঘা জমি আছে| সে জমির ধান দিয়ে বছরের খাবার চলে| একটু ভাল চলার জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে হাওরের আরও পাঁচ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেছিলেন এবার| জমি চাষাবাদ করতে গিয়ে এলাকার কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে টাকাও ধার করেছিলেন| যার পরিমাণ প্রায় ৯০ হাজার টাকা| স্বপ্ন ছিল ঘরে পাকা ধান আসলে সে ধান বিক্রি করে ধারের টাকা পরিশোধ করবেন| কিন্তু টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢল তার ছয় বিঘা জমির পাাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়| 


শনিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে গিয়ে ছিলেন ধান কাটতে| চোখের সামনে পুরো বছরের খাবারের ধান তলিয়ে যেতে দেখে হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন জমির পাশে| সেখানেই তার মৃত্যু হয়| পরে দুপুরে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়|



আহাদের ঘরে এখন কেবলই কান্নার শব্দ| স্ত্রী খুসনাহার বেগম তিন মাসের অন্তঃসত্বা| বাড়িতে তিনটি ছোট সন্তান| আরেকটি নতুন প্রাণ আসছে পৃথিবীতে| তাঁর তিন সন্তানই অবুঝ শিশু| বড় ছেলের বয়সও ৭ বছর| সে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী| ছোট ছেলে লিটন মিয়া (৫) এখনো ভালভাবে কথা বলাই শিখেনি| আর ছোট মেয়ে নুসরাত বেগম (৩)| নিহতের স্ত্রীর কপালে এখন নতুন চিন্তার ভাঁজ| এখন কীভাবে চলবে সংসার? কীভাবে শোধ করবেন মহাজনের দেনা|


কেবল আহাদ নন| পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের আরও দুই কৃষক| একজন মো. নজরুল মিয়া অপরজন মো. মিজান মিয়া| নজরুল গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে| সে বর্গা নিয়ে পুটিয়া বিলে চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন আর তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন| এর মধ্যে তিনি আশা এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন আর ৫০ হাজার টাকা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছেন|



নজরুল মিয়া বলেন, আমার বাড়ি গাঙ্গের পাড়| এর পাশেই পুটিয়া বিল| এই বিলে চার বিঘা জমিতে ব্রি ২৯ ধান চাষ করছিলাম| আর গাঙ্গের (নদী) পাশে চরে তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করছিলাম| শনিবার কামলা (শ্রমিক) নিয়া গেছিলাম ধান কাটতাম| জমিতে পানি দেখে কামলারা (শ্রমিক) চইলা যায়| আমি কিছুক্ষণ দাড়াই থাকার পর অজ্ঞান হয়া যাই| এর পর আর কিছু কইতাম পাারিনা| বিকালবেলা দেখি আমি গ্রামরে একটি ফার্মেসিতে ঘুমাই আছি| আমারত সব শেষ| এখন এনজিওর কিস্তি দিমু কেমনে, আর পরিবার নিয়া সারা বছর কেমনে চলুম, এটা চিন্তা করলেই বুকের মধ্যে বেদনা (ব্যথা) করে|।


অপর কৃষক মো. মিজান মিয়া| তিনি শুষ্ক মৌসুমে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে পরিবার চালান| পৌতৃকভাবে পাওয়া ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন এবছর| সে জমি আবাদ করতে ব্রাক এনজিও থেকে প্রথমবার ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন| পরে আবারো ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন| গত সপ্তপাহে দুই বিঘা জমির ধান কাটতে পারছেন| কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেই ধানও পচে নষ্ট হয়ে গেছে| আর বাকি চার বিঘা জমি পানির নিচে তালিয়ে গেছে| তার দুই ছেলে দুই মেয়ে| এরমধ্যে তিন জন অষ্ট্রগ্রামের বাঙ্গালপাড়া আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে| আর ছোট ছেলে সোনাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী|



কথা হলে মিজানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, আমার স্বামীর বুকে খুব ব্যাথা| কথা বলতে পারেনা ঠিকমত| গত শনিবারে জমি কাটতে গেছিন| ধান পানির নিচে দেইখ্যা অজ্ঞান হয়ে যায়| কামলা (শ্রমিক) বেডাইন বাড়িতে দিয়া গেছে| অষ্ট্রগামে নিয়া চিকিৎসা করাই আনছি| ধানও পানির নিচে জামাইও অসুস্থ| এখন পরিবার নিয়া কই যামু?


এদিকে কৃষকের মৃত্যুর একদিন পর রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্থানীয় এমপি এম এ হান্নান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান| নিহতের পরিবারের কাছে নগদ টাকা, নতুন জামা-কাপড় ও শুকনো খাবার তুলে দেন| পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এমপি এম এ হান্নান বলেন, আমাদের কৃষি মন্ত্রী একাধিকবার ফোন করে নিহত কৃষকের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন| তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে ওই পরিবারকে কিভাবে সহযোগীতা করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি| ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন| ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন।


সরেজমিন গত শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা  কোথাও নৌকা নিয়ে আবার কোথাও কৃষক বোক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন| কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে জমি থেকে ধান কেটে মাথায় বোঝাই করে খলায় রাখছেন| খলায় সেই ধনের স্তূপ| সবাই বৃষ্টির পানিতে ভিজে পচে যাবার উপক্রম ˆতরি হয়েছে| কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেবল গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের গুরুহাজা, কাতলাপুর, দলিয়াবিল, সেতারি বিল, মধ্যকান্দা বিল, পুরাকান্দা বিল, নেলিখ্যা বিল, খারি বিলে প্রায় ৫০০ বিঘা পাকা ধান তলিয়ে গেছে| একই ইউনিয়নের ঝামারবালি গ্রামের খাসের চর, বলাচর, বন্দের বিল, দক্ষিণ চরে ৪০০ বিঘা ধান তলিয়ে গেছে| এছাড়াও কদমতলী গ্রামের কয়েকটি বিল বা হাওরে ৩০০ থেকে ৪০০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে| 



গোয়ালনগর গ্রামের কৃষক খলিল মিয়া বলেন, ১০ কানি (৩০ শতকে এক কানি) জমিতে ধান করছি| দুই কানি জমির ধান কাইটা খলায় শুকানোর জন্য রাখছি| বৃষ্টিতে সেই ধানও পইচ্যা নীল হইয়া গেছে| বাকি আট কানি জমির ধান পানির নিচে তলাই গেছে| এই ধান আর তোলা যাবে না|


কৃষক নাসির মিয়া বলেন, আমার সব সম্পদ তলাইয়া গেছে| পুলাপাইন লইয়া কেমনে দিন কাটামু এই অবস্থা নাই| ১৫ কানি খেত পানির নিচে| রাতে ঘুম আসেনা ধানের চিন্তায়| কিছু ধান কাটছিলাম কিন্তু সেই ধানেও গেরা আইয়া পড়ছে, কিছু ধান খলায় পচতাছে|


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগরে ১৭ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে| ৫৫ হাজার কৃষক ধান আবাদ করেছেন| গত সপ্তাহের প্রথম দিকে আকষ্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়| পরে টানা বৃষ্টির কারণে আরও ৩৫০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়| এতে দুই থেকে আড়াই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন| মোট ক্ষতি প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন ধান| টাকার অংকে যার বাজার মূল্য ১৩ কোটি উনচল্লিশ লক্ষ বিশ হাজার টাকা| তবে স্থানীয় কৃষকের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি| গত বৃহস্পতিবারে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নামের তালিকা ˆতরি করলেও গোয়ালনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকই তালিকায় নাম ওঠেনি|


কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনের ভাষ্য, দুই ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা দিতে নির্দেশ দেওয়ায় সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি| ২০০ কৃষকের নাম প্রাথমিকভাবে পাঠানো হয়েছে| তবে ক্ষতিগ্রস্ত কোন কৃষকের নামই বাদ পড়বে না| আগামী মৌসুমের ফসল ঘরে উঠা না পর্যন্ত মানবিক সাহায্য হিসেবে নগদ তিন হাজার ও ৬০ কেজি চাল প্রতি মাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দেওয়া হবে| 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, আমাদের এমপি মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত আহাদ মিয়ার পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় নগদ টাকা ও খাবার পেীঁছে দেওয়া হয়েছে| আমরা ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি| পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে|

এক রাতে ৭ জনকে গলা কেটে হত্যা

এক রাতে ৭ জনকে গলা কেটে হত্যা


 নওগাঁ ও কক্সবাজারে সাতজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিয়ামতপুর উপজেলায় চারজন ও টেকনাফে তিনজনকে হত্যা করা হয়।

নওগাঁ : জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে গতকাল রাতে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপকূলীয় বাহারছড়া উত্তর শীলখালী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে উত্তর শীলখালীতে পাহাড়ের পাদদেশে একটি বাসায় চারজনকে গলা কেটে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন— নুরুল কবিরের ছেলে মজিদ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর এবং রুহুল আমিনের ছেলে রবি।

নরসিংদীর পলাশে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘ/বদ্ধ ধ*র্ষ*ণ, গ্রেফতার এক

নরসিংদীর পলাশে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘ/বদ্ধ ধ*র্ষ*ণ, গ্রেফতার এক


 নরসিংদীর পলাশে এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজুর রহমান(২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সানেরবাড়ী গ্রাম থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান ওই গ্রামের আব্দুস সাক্তারের ছেলে।

পুলিশ জানায়,গতকাল বুধবার সন্ধায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী একই গ্রামের তার বান্ধবীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সানের বাড়ীর আতসীপাড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে ওই গ্রামে অর্জুন বাদশা ও হাফিজুর তাকে পথরোধ করে জোরপুর্ব্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। পরে ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর পরিবার থানায় এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত)মো: কুতুবুল আলম জানান, প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণের আলামত পায় পুলিশ। অপর আসামীকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি।

মোহাম্মদপুরে থামছে না সহিংসতা, ৪ দিনের ব্যবধানে ফের খুন

মোহাম্মদপুরে থামছে না সহিংসতা, ৪ দিনের ব্যবধানে ফের খুন


 রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সহিংসতা যেন থামছেই না। চার দিনের ব্যবধানে আবারও এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের সাদেক খানের ইটাখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আসাদুল হক (২৮), যিনি ‘লম্বু আসাদুল’ নামে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার তিনরাস্তা থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার পথে সাদেক খানের ইটাখোলা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এডিসি জুয়েল রানা জানান, নিহত আসাদুল বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কালনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে, গত ১২ এপ্রিল একই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘এলেক্স ইমন’ গ্রুপের প্রধান ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সূত্র কালবেলা 

ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা দিল সৌদি আরব

ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা দিল সৌদি আরব


 সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ কমাতে এবং আলোচনায় ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি বলছে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। 

গালফ অঞ্চলের কূটনীতিকদের বরাতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনকে ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরবের এই চাপ প্রয়োগের পেছনে বড় উদ্বেগ রয়েছে। কেননা তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিশোধ নেয়, তাহলে তারা ইয়েমেনে থাকা তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের দিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালিটি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর দিয়েছে ইরান। দেশটি ওমান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালির দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো হামলার ঝুঁকি ছাড়া অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


সূত্র জানিয়েছে, যদি নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হয় তাহলে এই ছাড় দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে শত শত ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরের ভেতরে আটকে পড়েছে। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।


তেহরানঘনিষ্ঠ ওই সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইরান প্রণালির ওমান-নিয়ন্ত্রিত পাশ দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলতে দিতে প্রস্তুত হতে পারে। তবে সূত্রটি জানায়নি, ইরান ওই অংশে যদি কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তা সরাতে রাজি হবে কি না কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকেও অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।

সূত্র আরও জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইরানের দাবি পূরণে কতটা রাজি হয় তার ওপর নির্ভর করছে। এটি যে কোনো সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রে মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খালেদা জিয়া এ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করতে দুই সম্পাদক চাপ দিয়েছিলেন

খালেদা জিয়া এ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করতে দুই সম্পাদক চাপ দিয়েছিলেন


 এক-এগারোর অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মুখ খুলেছেন। গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এক এগারোতে তার ভূমিকা, তার সঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধানের মতবিরোধ এবং এক্সিট প্ল্যান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনী বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পক্ষে ছিলেন না।

কিন্তু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিশেষ করে, দুই সম্পাদক তাদের গ্রেপ্তারের জন্য রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই সমঝোতার কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বহাল রাখে।

ব্রিগেডিয়ার বারী এবং আমিনকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়, সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল মইনকে বহাল রাখা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় তার ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সবশেষ গত ৭ এপ্রিল পল্টন মডেল থানার মামলায় তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১১ এপ্রিল এক-এগারোর আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।  গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাকে মূলত ২০০৭ সালের এক এগারোর ষড়যন্ত্র নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।সেনাপ্রধান হতে না পারার ক্ষোভ থেকেই বিএনপি বিরোধী অবস্থান : প্রায় তিন সপ্তাহের জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং এক এগারোর ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ এস্কান্দার, মইন উ আহমেদ এবং তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে একসঙ্গে কমিশন করেন। এটা ছিল বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম ব্যাচ। কমিশনের পর তিনি (জেনারেল মাসুদ) কিছুদিন রক্ষীবাহিনীতে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। অনেক সেনাসদস্যকে রক্ষীবাহিনীতে সংযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটাই তার পেশাগত জীবনে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে দাবি করেন জেনারেল মাসুদ। তিনি বলেন, ২০০৫ সালের মে মাসে নতুন সেনাপ্রধান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি বলেন, সেনাপ্রধান হওয়ার জন্য আমিই ছিলাম সবচেয়ে যোগ্য। কিন্তু বিএনপি সরকার তার বদলে সাতজনকে টপকে জেনারেল মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করে। মাসুদ এটা মেনে নিতে পারেননি। এখান থেকেই তার মধ্যে বিএনপির প্রতি ক্ষোভ শুরু হয়। মাসুদ সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

একটি টেলিফোন পাল্টে দেয় সবকিছু : মাসুদ উদ্দিন বলেন, ২০০৬ সালের শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। তখন তিনি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন অর্থাৎ নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। নানা কারণেই এই ডিভিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ডিভিশনকে বলা হয়, সেনাবাহিনীর অন্যতম স্তম্ভ। মাসুদ বলেন, এ সময়ে তিনি একজন সম্মানিত সম্পাদকের ফোন পান। ইংরেজি দৈনিকের এই সম্পাদক তার সঙ্গে একান্তে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাসুদ বলেন, সাভার সেনানিবাসে তাকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি রাজি হননি। তিনি আমাকে গুলশানের একটি বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। আমি তার প্রস্তাব গ্রহণ করি। মাসুদ বলেন, ২০০৬ এর অক্টোবরে গুলশানে একজন শিল্পপতির বাসায় আমি সস্ত্রীক যাই। ওই শিল্পপতি দুটি প্রভাবশালী সংবাদপত্রের মালিক। সেখানে আমি আরও কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে পরিচিত হই। তাদের মধ্যে বাংলা দৈনিকের সম্পাদক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, লেখক এবং বুদ্ধিজীবী ছিলেন। সেখানে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নৈশভোজের ফাঁকে দুই সম্পাদক এবং একজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী আমার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন। মাসুদ দাবি করেন, এই আলোচনায় রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। জেনারেল মাসুদ গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছেন, আমি তিনজনকেই বলি সেনাবাহিনী চলে চেইন অব কমান্ডে, তাই এ বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাদের আলোচনা করা উচিত। তারা মাসুদকে জানান, সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি আপনার ভূমিকা নিয়ে নিশ্চিত নন। মাসুদ বলেন, এ সময় আমি বলি সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী এবং দেশের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি তা পালন করব।

সেনাপ্রধানের ফোন : রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ওই নৈশভোজের এক দিন পরই সেনাপ্রধান আমাকে ফোন করেন এবং জরুরি বৈঠকের জন্য সেনা সদরে আসতে বলেন। মাসুদ বলেন, মইন তার ভালো বন্ধু হলেও সেনাপ্রধান হওয়ার পর তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সেনা সদরের বৈঠকে তাদের দূরত্ব কমে যায়। ওই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। মইন তাকে জানান যে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে না। মাসুদ এই তথ্য বিশ্বাস করেননি। তিনি বলেন, ২২ জানুয়ারির নির্বাচন যদি আওয়ামী লীগ বর্জন করে তাহলে সেনাপ্রধান যে সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি মেনে নেব। মাসুদ বলেন, এরপর দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। রিমান্ডে তিনি বলেন, ৮ জানুয়ারি সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে আমরা ইয়াজউদ্দিনের সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করি। মাসুদ দাবি করেন, সেনাবাহিনীতে তিনি সেনাপ্রধানের চেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন। এজন্য এক এগারোর সময় তাকে সামনে রেখে মইন সবকিছু করেছিলেন।

সুশীলদের চাপে বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত : রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন দাবি করেন যে, তিনি নিজে বা সেনাবাহিনী বেগম জিয়ার পরিবারকে গ্রেপ্তার করার পক্ষে ছিলেন না। কোর কমান্ডের বৈঠকে তাদের গৃহবন্দি অথবা বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিশেষ করে, দুই সম্পাদক তাদের গ্রেপ্তারের জন্য রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করে। মাসুদ দাবি করেন, আমি তাদের বলেছিলাম, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁকে আপামর সেনা সদস্যরা শ্রদ্ধা করে। জিয়া পরিবারকে গ্রেপ্তার করা হলে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুই নেত্রীকে না সরালে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার অসম্ভব। মাসুদ বলেন, আমি তখন দুই সম্পাদকে এ বিষয়ে জনমত তৈরি করতে বলেছিলাম। এরপর দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে দুটি সংবাদপত্র একাধিক সংবাদ প্রকাশ করে।

মইনের সঙ্গে আবার বিরোধ : রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ দাবি করেছেন যে, রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা দেয়। এক এগারোর মাঝামাঝি সময়ে মইন এরশাদের মতো রাজনৈতিক দল গঠন করে ক্ষমতা দখল করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর নেতৃত্বে একটি কিংস পার্টি গঠন করেন। মাসুদ গোয়েন্দাদের বলেছেন, কখনোই আমি রাজনৈতিক দল গঠনের পক্ষে ছিলাম না। এর পরই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন বলে জানান।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা : রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি এক এগারোর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তারপর তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তার কাজে অনিয়ম, বাধা দেওয়ায় প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে ধাওয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তার কাজে অনিয়ম, বাধা দেওয়ায় প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে ধাওয়া


 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে পরিদর্শনে যান উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম। এ সময় ঠিকাদার তাকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার মেরকুটা থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করেন স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন। গতকাল রোববার এলাকাবাসী কাজে অনিয়মের অভিযোগে বাধা প্রদান করেন। খবর পেয়ে সোমবার এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ উপসহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের বাগ-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে লোকমান হোসেন উত্তেজিত হয়ে বাঁশ নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করার জন্য ধাওয়া করেন।

নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলজিইডির নবীনগর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নবীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলার ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।