Previous
Next

সর্বশেষ

আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ৩

আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ৩


ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরান এই হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সময় ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। নিহত ৩ জন যথাক্রমে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

 

ইরানে হা'ম'লায় ইস'রা'য়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ছিল সৌদি আরবও

ইরানে হা'ম'লায় ইস'রা'য়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ছিল সৌদি আরবও

ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছে ইসরায়েল ও সৌদি আরব—এমন দাবি করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই ইরানে হামলার পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের ভূমিকা ছিল কিছুটা জটিল। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ফোনে কথা বলে হামলার পক্ষে মত দেন বলে জানানো হয়, যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে বক্তব্য দেন।

একই সময়ে রিয়াদ জানায়, ইরানে হামলা হলে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

শনিবার ট্রাম্প বলেন, দুটি কারণে তিনি অপারেশন এপিক ফিউরি চালু করেন। প্রথমত, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু হয়েছিল।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানিরা কখনও এগিয়ে আসে, আবার সরে যায়। এতে বুঝেছি তারা আসলে চুক্তি চায় না। 

তিনি আরও জানান, গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে ইরান-সম্পর্কিত হামলার একটি তালিকা প্রস্তুত করতে তিনি নির্দেশ দেন এবং দেখেন প্রায় প্রতি মাসেই তারা কোনো না কোনো সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিল।

ঝগড়া করে গাছের উপরে নারী

ঝগড়া করে গাছের উপরে নারী

 

মা ও ভাইদের সঙ্গে ঝগড়া করে গাছের মগডালে উঠে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন এক তালাকপ্রাপ্ত নারী। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর মোড় এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে মালতি বেগম একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। কয়েক বছর আগে স্বামী সাত বছর বয়সি এক কন্যাসন্তান রেখে তাকে পরিত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। রোজার আগে বাড়িতে ফেরেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই মা ও দুই ভাই তাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দেন এবং বিভিন্ন সময় মারধর ও কটু কথা বলেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মালতি। শনিবার দুপুরে পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি বাড়ির পাশের একটি গাছে উঠে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেন, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। পরে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর মালতি অভিযোগ করেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য মা ও ভাইরা মারধর করে, অপমান করে। আমি রাগের মাথায় গাছে উঠেছিলাম। আমি সুস্থ আছি, আমাকে পাগল বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা শাসন করেছি। পরে দেখি গাছে উঠে গেছে। আত্মহত্যা করতে পারে ভেবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব জানান, ‘আমরা ভেবেছিলাম কেউ আত্মহত্যা করতে গাছে উঠেছে। পরে শুনি পারিবারিক ঝামেলার কারণে এমনটা হয়েছে। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সে গাছের ওপরেই ছিল।’

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন বলেন, ‘নারীর ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং নিরাপদে তাকে নামিয়ে আনি। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নন।’

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক সময় তালাকপ্রাপ্ত নারীরা নিজ পরিবারেও অনিরাপদ বোধ করেন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারিবারিক সহনশীলতা ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রোববার (১ মার্চ) ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসীদের হাতে তার শাহাদত প্রমাণ করে-তার নেতৃত্ব তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন, এই জাতি তাদের ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র নির্মূলে আইআরজিসি বদ্ধপরিকর।’ 

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির নিহত হওয়ার দাবি করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ইরান সরকারিভাবে খামেনির মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করে বলে জানানো হয়।

৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক। সামরিক, বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা-রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। মূলত তার নির্দেশনাতেই পরিচালিত হতো ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তৎকালীন শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হন। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

সূত্র : আলজাজিরা

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা


আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজ শনিবার সকালে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক হামলা চালায় তেহরানে।

এ সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় স্কুলটির অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, স্কুলে চালানো ওই হামলায় ৪০ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সেখানে প্রথমে পাঁচজনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল।

ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক

ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই দিনে রাজধানী তেহরানের পূর্বদিকে আরেকটি স্কুলেও হামলার ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, মিনাবের স্কুলটিতে হামলার পর নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে যায়, পরে তা ৫০–এর বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে।অন্যদিকে রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি স্কুলে হামলায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।

তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল বলেন, মিনাবের হামলাটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে তারা কেবল সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং ইরানের সরকারকে লক্ষ্য করছে, জনগণকে নয়। তবে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে হাজারও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন এবং বহু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।