Previous
Next

সর্বশেষ

ইরা‌কে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২ যুবকের  মৃত্যু

ইরা‌কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২ যুবকের মৃত্যু

 


ইরা‌কে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ৩ বাংলা‌দে‌শির মারা গে‌ছেন। তাদের ম‌ধ্যে দুইজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও একজন ফেনীর বা‌সিন্দা বলে জানা গেছে।

বৃহস্প‌তিবার (৫ মার্চ) এ তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে বাংলাদেশ দূতাবাস বাগদাদ।

এক শোকবার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্থানের আরবিলে প্রাথমিক অনুসন্ধানমতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ৩ বাংলা‌দে‌শি মারা গেছেন।

নিহরা হ‌লেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (পাসপোর্ট নং- EL-0875891), মো. সাব্বির ও ফেনীর মেহেদী হাসান (পাসপোর্ট নং-A18633961)।

এক সাথে বাবা ছেলের মৃত্যু

এক সাথে বাবা ছেলের মৃত্যু

 

তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবা-ছেলের মৃত্যু

তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে কক্ষে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তাদের সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তুরস্কের একটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। 

এছাড়া ফেনী জেলার এক যুবকও এ ঘটনায় মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন (২৬)। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তুরস্কের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাতে সেহেরি খাওয়ার পর ভোরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। 

ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারেক মিয়া, সাব্বির ও অপর যুবকের মৃত্যু হয়। পরে লিটনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

জানা গেছে, তারেক মিয়া প্রায় ১৪ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমান। দেড় বছর আগে তিনি ছেলে সাব্বিরকে সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের মা বেঁচে নেই।

সাব্বিরের খালা লুতফা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মরদেহ দেশে আনার বিষয়টি নিয়ে আমরা দিশেহারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে মরদেহ আনা সম্ভব নয়। সবার কাছে দোয়া চাই।’

আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ৩

আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ৩


ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরান এই হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সময় ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। নিহত ৩ জন যথাক্রমে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

 

ইরানে হা'ম'লায় ইস'রা'য়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ছিল সৌদি আরবও

ইরানে হা'ম'লায় ইস'রা'য়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ছিল সৌদি আরবও

ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছে ইসরায়েল ও সৌদি আরব—এমন দাবি করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই ইরানে হামলার পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের ভূমিকা ছিল কিছুটা জটিল। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ফোনে কথা বলে হামলার পক্ষে মত দেন বলে জানানো হয়, যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে বক্তব্য দেন।

একই সময়ে রিয়াদ জানায়, ইরানে হামলা হলে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

শনিবার ট্রাম্প বলেন, দুটি কারণে তিনি অপারেশন এপিক ফিউরি চালু করেন। প্রথমত, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু হয়েছিল।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানিরা কখনও এগিয়ে আসে, আবার সরে যায়। এতে বুঝেছি তারা আসলে চুক্তি চায় না। 

তিনি আরও জানান, গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে ইরান-সম্পর্কিত হামলার একটি তালিকা প্রস্তুত করতে তিনি নির্দেশ দেন এবং দেখেন প্রায় প্রতি মাসেই তারা কোনো না কোনো সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিল।

ঝগড়া করে গাছের উপরে নারী

ঝগড়া করে গাছের উপরে নারী

 

মা ও ভাইদের সঙ্গে ঝগড়া করে গাছের মগডালে উঠে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন এক তালাকপ্রাপ্ত নারী। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর মোড় এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে মালতি বেগম একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। কয়েক বছর আগে স্বামী সাত বছর বয়সি এক কন্যাসন্তান রেখে তাকে পরিত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। রোজার আগে বাড়িতে ফেরেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই মা ও দুই ভাই তাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দেন এবং বিভিন্ন সময় মারধর ও কটু কথা বলেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মালতি। শনিবার দুপুরে পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি বাড়ির পাশের একটি গাছে উঠে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেন, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। পরে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর মালতি অভিযোগ করেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য মা ও ভাইরা মারধর করে, অপমান করে। আমি রাগের মাথায় গাছে উঠেছিলাম। আমি সুস্থ আছি, আমাকে পাগল বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা শাসন করেছি। পরে দেখি গাছে উঠে গেছে। আত্মহত্যা করতে পারে ভেবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব জানান, ‘আমরা ভেবেছিলাম কেউ আত্মহত্যা করতে গাছে উঠেছে। পরে শুনি পারিবারিক ঝামেলার কারণে এমনটা হয়েছে। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সে গাছের ওপরেই ছিল।’

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন বলেন, ‘নারীর ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং নিরাপদে তাকে নামিয়ে আনি। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নন।’

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক সময় তালাকপ্রাপ্ত নারীরা নিজ পরিবারেও অনিরাপদ বোধ করেন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারিবারিক সহনশীলতা ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রোববার (১ মার্চ) ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসীদের হাতে তার শাহাদত প্রমাণ করে-তার নেতৃত্ব তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন, এই জাতি তাদের ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র নির্মূলে আইআরজিসি বদ্ধপরিকর।’ 

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির নিহত হওয়ার দাবি করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ইরান সরকারিভাবে খামেনির মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করে বলে জানানো হয়।

৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক। সামরিক, বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা-রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। মূলত তার নির্দেশনাতেই পরিচালিত হতো ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তৎকালীন শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হন। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

সূত্র : আলজাজিরা