Previous
Next

সর্বশেষ

বন্ধ হচ্ছে ৭১৭ সরকারি মদের দোকান

বন্ধ হচ্ছে ৭১৭ সরকারি মদের দোকান


 তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জোসেফ বিজয়।

মঙ্গলবার দেওয়া এক সরকারি আদেশে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা এসব দোকান দুই সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া বা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল, কলেজ ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন (তাসম্যাক) পরিচালিত মদের দোকানগুলো এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছে।

তামিলনাড়ু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৭৬৫ সরকারি মদের দোকান রয়েছে। বন্ধের তালিকায় থাকা ৭১৭ দোকানের মধ্যে ২৭৬ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।

দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজয়ের এ সিদ্ধান্তকে সামাজিক সংস্কার ও জনস্বার্থে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তার সরকার।

তবে তাসম্যাক রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব আয়ের উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে সরকারের আয় কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর কংগ্রেস, বাম দল, ভিসিকে ও মুসলিম লিগের সমর্থনে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন হয়েছে।

বর্তমানে বিধানসভায় বিজয়ের দলের ১০৭ আসন রয়েছে। শরিকদের ১৩ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি শিগগিরই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন।

মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নতুন সরকার আরও কয়েকটি জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন এবং প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী ইউনিট স্থাপন।

প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন হাসিনা সরকার

প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন হাসিনা সরকার


 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাউল শিল্পীদের নিয়ে করা ভাইরাল বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার। এর আগে নারী বাউল শিল্পীরা কুপ্রস্তাব পান এবং ‘বেডে’ না গেলে অনেক সময় অনুষ্ঠান পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।


সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, সব বাউল শিল্পীর কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। সবাই যেন আমাকে আগের মতো আগলে রাখেন, সেই প্রত্যাশা করছি।


ভিডিও বার্তায় হাসিনা সরকার বলেন, তার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তিনি অভিযোগ করে জানান, মিরপুরে কিছু লোক এসে তার একটি অফিস বন্ধ করে দেয়। এমনকি ‘হাসিনা সরকার’ নাম হওয়ায় বিভিন্ন মঞ্চ থেকে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


এই বাউল শিল্পী বলেন, ‘অনেক জায়গায় বলা হয়েছে, হাসিনা সরকার নামে কোনো শিল্পী গান গাইতে পারবে না। শিল্পীদের ক্লাব থেকে আমাকে গানের অফার দেওয়া হলেও পরে সেই সুযোগ অন্য শিল্পীদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে আমি কষ্ট পেয়েছিলাম।’

 নিহতের পরিবারের পাশে স্থানীয় এমপি হান্নান ও উপজেলা প্রশাসন

নিহতের পরিবারের পাশে স্থানীয় এমপি হান্নান ও উপজেলা প্রশাসন


 নিউজ ডেস্ক 

খুব সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে জমিতে গিয়েছিলেন আহাদ মিয়া| পাকা ধান কাটার কথা ছিলো সেদিন| কিন্তু জমিতে পৌঁছে তিনি দেখেন-চারদিকে অথৈই পানি| কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে পাকা ধান ডুবতে দেখেন তিনি| কিছুক্ষণ এভাবেই নিশ্চুপ তাকিয়ে ছিলেন| হঠাৎই লুটিয়ে পড়েন জমির পাশে| কিছুক্ষনের মধ্যেই সে জমির পাশে মৃত্যু বরণ করেন| একই সঙ্গে অনিশ্চয়তার গভীর অন্ধকারে ডুবে যায় তার পুরো পরিবারে  স্বপ্নও।

এখনও আহাদের জমিতে পানি| সেই পানির নিচে ডুবে আছে শুধু ধান নয়- একটি কৃষক পরিবারের সংগ্রাম, পরিবারের থাকার শেষ আশ্রয়, তিন শিশুসহ অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ|



জানা গেছে, আহাদের বাড়ি উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে| পেশায় কৃষক হলেও তিনি গ্রাম থেকে পুরনো জামা-কাপড় সংগ্রহ করে গ্রামের বাজারে বিক্রি করেই চলে তার সংসার| থাকার জায়গা হিসেবে পৌতৃক ভাবে পাওয়া এক শত জায়গার উপর একটি ছোট ভাঙ্গা টিনের ঘর| স্ত্রীসহ তিন সন্তান নিয়ে সেই ঘরে বসবাস করতেন| বাড়ি পাশে মেদির হাওরে এক বিঘা জমি আছে| সে জমির ধান দিয়ে বছরের খাবার চলে| একটু ভাল চলার জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে হাওরের আরও পাঁচ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেছিলেন এবার| জমি চাষাবাদ করতে গিয়ে এলাকার কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে টাকাও ধার করেছিলেন| যার পরিমাণ প্রায় ৯০ হাজার টাকা| স্বপ্ন ছিল ঘরে পাকা ধান আসলে সে ধান বিক্রি করে ধারের টাকা পরিশোধ করবেন| কিন্তু টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢল তার ছয় বিঘা জমির পাাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়| 


শনিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে গিয়ে ছিলেন ধান কাটতে| চোখের সামনে পুরো বছরের খাবারের ধান তলিয়ে যেতে দেখে হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন জমির পাশে| সেখানেই তার মৃত্যু হয়| পরে দুপুরে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়|



আহাদের ঘরে এখন কেবলই কান্নার শব্দ| স্ত্রী খুসনাহার বেগম তিন মাসের অন্তঃসত্বা| বাড়িতে তিনটি ছোট সন্তান| আরেকটি নতুন প্রাণ আসছে পৃথিবীতে| তাঁর তিন সন্তানই অবুঝ শিশু| বড় ছেলের বয়সও ৭ বছর| সে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী| ছোট ছেলে লিটন মিয়া (৫) এখনো ভালভাবে কথা বলাই শিখেনি| আর ছোট মেয়ে নুসরাত বেগম (৩)| নিহতের স্ত্রীর কপালে এখন নতুন চিন্তার ভাঁজ| এখন কীভাবে চলবে সংসার? কীভাবে শোধ করবেন মহাজনের দেনা|


কেবল আহাদ নন| পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের আরও দুই কৃষক| একজন মো. নজরুল মিয়া অপরজন মো. মিজান মিয়া| নজরুল গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে| সে বর্গা নিয়ে পুটিয়া বিলে চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন আর তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন| এর মধ্যে তিনি আশা এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন আর ৫০ হাজার টাকা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছেন|



নজরুল মিয়া বলেন, আমার বাড়ি গাঙ্গের পাড়| এর পাশেই পুটিয়া বিল| এই বিলে চার বিঘা জমিতে ব্রি ২৯ ধান চাষ করছিলাম| আর গাঙ্গের (নদী) পাশে চরে তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করছিলাম| শনিবার কামলা (শ্রমিক) নিয়া গেছিলাম ধান কাটতাম| জমিতে পানি দেখে কামলারা (শ্রমিক) চইলা যায়| আমি কিছুক্ষণ দাড়াই থাকার পর অজ্ঞান হয়া যাই| এর পর আর কিছু কইতাম পাারিনা| বিকালবেলা দেখি আমি গ্রামরে একটি ফার্মেসিতে ঘুমাই আছি| আমারত সব শেষ| এখন এনজিওর কিস্তি দিমু কেমনে, আর পরিবার নিয়া সারা বছর কেমনে চলুম, এটা চিন্তা করলেই বুকের মধ্যে বেদনা (ব্যথা) করে|।


অপর কৃষক মো. মিজান মিয়া| তিনি শুষ্ক মৌসুমে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে পরিবার চালান| পৌতৃকভাবে পাওয়া ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন এবছর| সে জমি আবাদ করতে ব্রাক এনজিও থেকে প্রথমবার ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন| পরে আবারো ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন| গত সপ্তপাহে দুই বিঘা জমির ধান কাটতে পারছেন| কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেই ধানও পচে নষ্ট হয়ে গেছে| আর বাকি চার বিঘা জমি পানির নিচে তালিয়ে গেছে| তার দুই ছেলে দুই মেয়ে| এরমধ্যে তিন জন অষ্ট্রগ্রামের বাঙ্গালপাড়া আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে| আর ছোট ছেলে সোনাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী|



কথা হলে মিজানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, আমার স্বামীর বুকে খুব ব্যাথা| কথা বলতে পারেনা ঠিকমত| গত শনিবারে জমি কাটতে গেছিন| ধান পানির নিচে দেইখ্যা অজ্ঞান হয়ে যায়| কামলা (শ্রমিক) বেডাইন বাড়িতে দিয়া গেছে| অষ্ট্রগামে নিয়া চিকিৎসা করাই আনছি| ধানও পানির নিচে জামাইও অসুস্থ| এখন পরিবার নিয়া কই যামু?


এদিকে কৃষকের মৃত্যুর একদিন পর রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্থানীয় এমপি এম এ হান্নান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান| নিহতের পরিবারের কাছে নগদ টাকা, নতুন জামা-কাপড় ও শুকনো খাবার তুলে দেন| পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এমপি এম এ হান্নান বলেন, আমাদের কৃষি মন্ত্রী একাধিকবার ফোন করে নিহত কৃষকের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন| তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে ওই পরিবারকে কিভাবে সহযোগীতা করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি| ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন| ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন।


সরেজমিন গত শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা  কোথাও নৌকা নিয়ে আবার কোথাও কৃষক বোক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন| কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে জমি থেকে ধান কেটে মাথায় বোঝাই করে খলায় রাখছেন| খলায় সেই ধনের স্তূপ| সবাই বৃষ্টির পানিতে ভিজে পচে যাবার উপক্রম ˆতরি হয়েছে| কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেবল গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের গুরুহাজা, কাতলাপুর, দলিয়াবিল, সেতারি বিল, মধ্যকান্দা বিল, পুরাকান্দা বিল, নেলিখ্যা বিল, খারি বিলে প্রায় ৫০০ বিঘা পাকা ধান তলিয়ে গেছে| একই ইউনিয়নের ঝামারবালি গ্রামের খাসের চর, বলাচর, বন্দের বিল, দক্ষিণ চরে ৪০০ বিঘা ধান তলিয়ে গেছে| এছাড়াও কদমতলী গ্রামের কয়েকটি বিল বা হাওরে ৩০০ থেকে ৪০০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে| 



গোয়ালনগর গ্রামের কৃষক খলিল মিয়া বলেন, ১০ কানি (৩০ শতকে এক কানি) জমিতে ধান করছি| দুই কানি জমির ধান কাইটা খলায় শুকানোর জন্য রাখছি| বৃষ্টিতে সেই ধানও পইচ্যা নীল হইয়া গেছে| বাকি আট কানি জমির ধান পানির নিচে তলাই গেছে| এই ধান আর তোলা যাবে না|


কৃষক নাসির মিয়া বলেন, আমার সব সম্পদ তলাইয়া গেছে| পুলাপাইন লইয়া কেমনে দিন কাটামু এই অবস্থা নাই| ১৫ কানি খেত পানির নিচে| রাতে ঘুম আসেনা ধানের চিন্তায়| কিছু ধান কাটছিলাম কিন্তু সেই ধানেও গেরা আইয়া পড়ছে, কিছু ধান খলায় পচতাছে|


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগরে ১৭ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে| ৫৫ হাজার কৃষক ধান আবাদ করেছেন| গত সপ্তাহের প্রথম দিকে আকষ্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়| পরে টানা বৃষ্টির কারণে আরও ৩৫০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়| এতে দুই থেকে আড়াই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন| মোট ক্ষতি প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন ধান| টাকার অংকে যার বাজার মূল্য ১৩ কোটি উনচল্লিশ লক্ষ বিশ হাজার টাকা| তবে স্থানীয় কৃষকের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি| গত বৃহস্পতিবারে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নামের তালিকা ˆতরি করলেও গোয়ালনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকই তালিকায় নাম ওঠেনি|


কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনের ভাষ্য, দুই ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা দিতে নির্দেশ দেওয়ায় সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি| ২০০ কৃষকের নাম প্রাথমিকভাবে পাঠানো হয়েছে| তবে ক্ষতিগ্রস্ত কোন কৃষকের নামই বাদ পড়বে না| আগামী মৌসুমের ফসল ঘরে উঠা না পর্যন্ত মানবিক সাহায্য হিসেবে নগদ তিন হাজার ও ৬০ কেজি চাল প্রতি মাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দেওয়া হবে| 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, আমাদের এমপি মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত আহাদ মিয়ার পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় নগদ টাকা ও খাবার পেীঁছে দেওয়া হয়েছে| আমরা ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি| পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে|

এক রাতে ৭ জনকে গলা কেটে হত্যা

এক রাতে ৭ জনকে গলা কেটে হত্যা


 নওগাঁ ও কক্সবাজারে সাতজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিয়ামতপুর উপজেলায় চারজন ও টেকনাফে তিনজনকে হত্যা করা হয়।

নওগাঁ : জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে গতকাল রাতে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপকূলীয় বাহারছড়া উত্তর শীলখালী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে উত্তর শীলখালীতে পাহাড়ের পাদদেশে একটি বাসায় চারজনকে গলা কেটে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন— নুরুল কবিরের ছেলে মজিদ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর এবং রুহুল আমিনের ছেলে রবি।

নরসিংদীর পলাশে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘ/বদ্ধ ধ*র্ষ*ণ, গ্রেফতার এক

নরসিংদীর পলাশে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘ/বদ্ধ ধ*র্ষ*ণ, গ্রেফতার এক


 নরসিংদীর পলাশে এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজুর রহমান(২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সানেরবাড়ী গ্রাম থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান ওই গ্রামের আব্দুস সাক্তারের ছেলে।

পুলিশ জানায়,গতকাল বুধবার সন্ধায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী একই গ্রামের তার বান্ধবীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সানের বাড়ীর আতসীপাড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে ওই গ্রামে অর্জুন বাদশা ও হাফিজুর তাকে পথরোধ করে জোরপুর্ব্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। পরে ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর পরিবার থানায় এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত)মো: কুতুবুল আলম জানান, প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণের আলামত পায় পুলিশ। অপর আসামীকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি।

মোহাম্মদপুরে থামছে না সহিংসতা, ৪ দিনের ব্যবধানে ফের খুন

মোহাম্মদপুরে থামছে না সহিংসতা, ৪ দিনের ব্যবধানে ফের খুন


 রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সহিংসতা যেন থামছেই না। চার দিনের ব্যবধানে আবারও এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের সাদেক খানের ইটাখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আসাদুল হক (২৮), যিনি ‘লম্বু আসাদুল’ নামে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার তিনরাস্তা থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার পথে সাদেক খানের ইটাখোলা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এডিসি জুয়েল রানা জানান, নিহত আসাদুল বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কালনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে, গত ১২ এপ্রিল একই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘এলেক্স ইমন’ গ্রুপের প্রধান ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সূত্র কালবেলা 

ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা দিল সৌদি আরব

ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা দিল সৌদি আরব


 সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ কমাতে এবং আলোচনায় ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি বলছে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। 

গালফ অঞ্চলের কূটনীতিকদের বরাতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনকে ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরবের এই চাপ প্রয়োগের পেছনে বড় উদ্বেগ রয়েছে। কেননা তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিশোধ নেয়, তাহলে তারা ইয়েমেনে থাকা তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের দিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালিটি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর দিয়েছে ইরান। দেশটি ওমান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালির দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো হামলার ঝুঁকি ছাড়া অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


সূত্র জানিয়েছে, যদি নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হয় তাহলে এই ছাড় দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে শত শত ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরের ভেতরে আটকে পড়েছে। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।


তেহরানঘনিষ্ঠ ওই সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইরান প্রণালির ওমান-নিয়ন্ত্রিত পাশ দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলতে দিতে প্রস্তুত হতে পারে। তবে সূত্রটি জানায়নি, ইরান ওই অংশে যদি কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তা সরাতে রাজি হবে কি না কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকেও অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।

সূত্র আরও জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইরানের দাবি পূরণে কতটা রাজি হয় তার ওপর নির্ভর করছে। এটি যে কোনো সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রে মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।