ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা দিল সৌদি আরব


 সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ কমাতে এবং আলোচনায় ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি বলছে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। 

গালফ অঞ্চলের কূটনীতিকদের বরাতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনকে ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরবের এই চাপ প্রয়োগের পেছনে বড় উদ্বেগ রয়েছে। কেননা তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিশোধ নেয়, তাহলে তারা ইয়েমেনে থাকা তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের দিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালিটি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর দিয়েছে ইরান। দেশটি ওমান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালির দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো হামলার ঝুঁকি ছাড়া অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


সূত্র জানিয়েছে, যদি নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হয় তাহলে এই ছাড় দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে শত শত ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরের ভেতরে আটকে পড়েছে। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।


তেহরানঘনিষ্ঠ ওই সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইরান প্রণালির ওমান-নিয়ন্ত্রিত পাশ দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলতে দিতে প্রস্তুত হতে পারে। তবে সূত্রটি জানায়নি, ইরান ওই অংশে যদি কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তা সরাতে রাজি হবে কি না কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকেও অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।

সূত্র আরও জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইরানের দাবি পূরণে কতটা রাজি হয় তার ওপর নির্ভর করছে। এটি যে কোনো সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রে মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


শেয়ার করুন